
মোস্তফা ইউসুফ। প্রথম আলোর সাংবাদিক। আমাদের জুনিয়র বন্ধু। ও তখন অন্য কাগজে। জুলাই আন্দোলনের দিনগুলোতে প্রায়ই কাওরান বাজারে কথা বলতাম। বহু মানুষের সঙ্গেই। দুঃখ, যন্ত্রণা, সাহস, ভয়ের অদ্ভুত এক সময়।
মোস্তফা একদিন বলছিল ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের এক ঘটনা। কিছু আগেই দেখে এসেছে সে। গুলিবিদ্ধ এক কিশোর। ট্রলিতে শুয়ে আছে। বুঝতে পারছিল, আর বেশিক্ষণ টিকবে না। বন্ধুর হাত চেপে ধরে বলছিল, “আমার মাকে দেখে রাখিস।”
এই ঘটনার কোনো ছবি আমি দেখিনি। না ছিল কোনো ভিডিও। জাস্ট ওর কাছ থেকে শোনা। কিন্তু এখনও এ ছবি আমার মাথায় ঘুরতে থাকে। মনে হয়, ওই মা জানি কেমন আছেন। কোথায় আছেন? ছেলে হারানোর শোক কতটা তিনি কাটিয়ে উঠেছেন।
জুলাইয়ের এমন আরও হাজার হাজার ছবি।
দুই বছর পর আরেকটি জুলাইয়ে হবিগঞ্জে আক্রান্ত হলেন আলিফ চৌধুরী। উনিশ বছর বয়সী এক তরুণ। এনসিপির পদযাত্রায় যোগ দিতে এসেছিলেন। যতদূর জানা যাচ্ছে, সরকার-সমর্থকদের হামলার শিকার হয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার যখন এ লেখা লিখছি, তাঁর অস্ত্রোপচার হয়তো শেষ হয়েছে। মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত তাঁর একটি চোখ চিরতরে অন্ধ হয়ে গেছে—এমন খবর আসছে। যদিও এ ব্যাপারে চিকিৎসকদের ভাষ্য এখনও পাওয়া যায়নি।
গেল দুই দিনে আরও বেশ কিছু খবর আসছে। কিন্তু সব ছাপিয়ে আমার সামনে বারবার ভেসে আসছে আলিফের চোখ। পুরো জাতিরই তাই হওয়ার কথা।
আওয়ামী লীগ-সমর্থকরা এ ঘটনায় উচ্ছ্বসিত। তাঁদের অনেকেই উল্লাস করে পোস্টও দিচ্ছেন।
একদল বলছেন, বিএনপি এনসিপিকে বিরোধী দল বানাতে চায়, তাই এত আয়োজন।
আরেকদল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুন্দর সুন্দর ভিডিও শেয়ার দিচ্ছেন।
এটা আমার প্রায়ই মনে হয়, এ জাতির বেশিরভাগ মানুষের কোনো সমস্যা আছে। গভীর সমস্যা। মানবিকতা, বিবেক আমাদের সঙ্গে সেভাবে যায় না।
কোনো দিন যাবে, সে আশাও দেখি না।

Author