
রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য কতজন মন্ত্রী প্রয়োজন? প্রশ্নটি শুনতে সহজ। কিন্তু এর উত্তর শুধু সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি সরকারের মন্ত্রিসভা কত বড় হবে, কোন মন্ত্রণালয়ে পূর্ণমন্ত্রী থাকবেন, কোথায় প্রতিমন্ত্রী প্রয়োজন হবে, প্রধানমন্ত্রীর কতজন উপদেষ্টা থাকবেন—এসব সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক দক্ষতা, সরকারি ব্যয়, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি এবং শেষ পর্যন্ত জনগণের অর্থের ব্যবহার।
তারেক রহমান সরকার ক্ষমতায় এসে শুরুতেই যে বার্তাটি দিয়েছিল, তার অন্যতম ছিল সংযম ও ব্যয় সংকোচন। সরকারি ব্যয় কমানো, অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা কমানো এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে খাবারের ব্যয় কমানোও সেই প্রতীকি নীতির অংশ হিসেবে সামনে আসে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একজনের দুপুরের খাবার ও নাশতার বাজেট ১৫০ টাকায় সীমিত করার খবর প্রকাশিত হয়। আবার সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুরুতে মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য খাবারের বরাদ্দ আরও কম ছিল।
পরবর্তী সময়ে সরকার পোস্ট-বাজেট ডিনার বাতিল করে প্রায় ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয়ের কথাও জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আতিথেয়তা ব্যয় কমানোর নির্দেশনার কথাও সরকারিভাবে জানানো হয়েছে।
অর্থাৎ সরকারের রাজনৈতিক বার্তাটি ছিল স্পষ্ট—সরকার নিজে সংযমী হবে, তারপর জনগণের কাছে ব্যয় সংকোচনের কথা বলবে।
কিন্তু এখানেই তৈরি হচ্ছে বড় প্রশ্ন।
ছয় মাসে মন্ত্রিসভার আকার কতটা বদলাল?
১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের সময় প্রধানমন্ত্রীসহ ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠিত হয়—২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ১০ জন উপদেষ্টা নিয়োগ দেন। তাঁদের পাঁচজনকে মন্ত্রীর এবং পাঁচজনকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা দেওয়া হয়। অর্থাৎ তাঁরা মন্ত্রিসভার সদস্য না হলেও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব, মর্যাদা, বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধার ক্ষেত্রে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর সমতুল্য অবস্থানে রয়েছেন।
এরপর ছয় মাসের মাথায়, ২১ আগস্ট, সরকার মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করে। চারজন নতুন মন্ত্রী ও দুইজন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন। এর মধ্যে আগের প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাট পূর্ণমন্ত্রী হন। নতুন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন আবদুল মঈন খান, আন্দালিব রহমান পার্থ, সা চিং প্রু এবং মিল্লাট; নতুন প্রতিমন্ত্রী হন হুমায়ুন কবীর ও মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।
ফলে বর্তমানে মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীসহ সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১। এর সঙ্গে পদমর্যাদায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এমন ১০ উপদেষ্টা যোগ করলে সরকারের রাজনৈতিক নির্বাহী কাঠামোর পরিধি দাঁড়ায় ৬১ জনে।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—মন্ত্রিসভার সদস্য আর মন্ত্রীর পদমর্যাদার উপদেষ্টা এক জিনিস নয়। পলিসি বিশ্লেষণে এই পার্থক্যটি স্পষ্ট রাখা জরুরি।
২০০১ সালের ‘ক্যাবিনেট’ কি আবার ফিরে আসছে?
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বড় মন্ত্রিসভার সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণগুলোর একটি খালেদা জিয়ার ২০০১ সালের সরকার। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার ৬০ সদস্যের মন্ত্রিসভা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। এতে ২৮ জন মন্ত্রী, ২৮ জন প্রতিমন্ত্রী এবং চারজন উপমন্ত্রী ছিলেন। সে সময় এত বড় মন্ত্রিসভা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল।
সমসাময়িক বিশ্লেষণেও ওই সরকারকে ‘jumbo cabinet’ বলা হয়েছিল। সমালোচকদের যুক্তি ছিল, বড় মন্ত্রিসভা একদিকে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে, অন্যদিকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামোকে জটিল করে তোলে। অর্থাৎ আজকের প্রশ্নটি নিছক বিএনপি বনাম আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বিতর্ক নয়। প্রশ্নটি হলো—একটি আধুনিক, দক্ষ ও ব্যয়-সচেতন রাষ্ট্রে রাজনৈতিক নির্বাহীর আকার কতটা হওয়া উচিত?
বড় মন্ত্রিসভা কি বড় সরকার?
অবশ্যই নয়। একটি দেশের মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা বেশি হলেই সেখানে বেশি মন্ত্রী প্রয়োজন—এমন কোনো প্রশাসনিক সূত্র নেই। আধুনিক রাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো portfolio design বা দায়িত্ব বণ্টনের কাঠামো। একটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে একাধিক খাত থাকতে পারে। আবার একটি বড় খাতকে প্রয়োজন অনুযায়ী পৃথক মন্ত্রণালয় বা বিভাগে ভাগ করা যেতে পারে।
বাংলাদেশে সমস্যা হলো, অনেক সময় মন্ত্রণালয়ের সাংগঠনিক কাঠামো এবং রাজনৈতিক পদ বণ্টনের কাঠামোকে একই জিনিস হিসেবে দেখা হয়।
উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়, একই মন্ত্রণালয় বা মন্ত্রণালয়-গুচ্ছে পূর্ণমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী—দুজনকেই দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। কৃষি, বাণিজ্য, পরিবহন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তথ্য, সংস্কৃতি, পর্যটনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এমন দ্বৈত রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যবস্থা রয়েছে। ১৭ ফেব্রুয়ারির দায়িত্ব বণ্টনের তালিকাতেও বহু মন্ত্রণালয়ে পূর্ণমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পাশাপাশি দায়িত্ব দেখা যায়।
এখানে প্রশ্ন হলো—একই খাতে দুজন রাজনৈতিক নির্বাহী থাকলে কি সিদ্ধান্ত দ্রুত হয়?
নাকি দায়িত্বের সীমারেখা আরও জটিল হয়?
মন্ত্রী বনাম আমলাতন্ত্র: সিদ্ধান্ত নেয় কে?
মন্ত্রিসভা বড় হওয়ার আরেকটি ঝুঁকি হলো decision-making dilution। মন্ত্রী রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের জন্য দায়ী। সচিব প্রশাসনিক বাস্তবায়নের জন্য দায়ী। কিন্তু একই মন্ত্রণালয়ে যদি পূর্ণমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং একাধিক রাজনৈতিক সহকারী সক্রিয় থাকেন, তাহলে সিদ্ধান্তের chain of command বা কর্তৃত্বের শৃঙ্খল জটিল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
কোন সিদ্ধান্ত মন্ত্রীর?
কোনটি প্রতিমন্ত্রীর?
কোনটি উপদেষ্টার পরামর্শ?
কোন সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন প্রয়োজন?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর যদি প্রশাসনিক বিধিতে পরিষ্কার না থাকে, তাহলে অতিরিক্ত রাজনৈতিক পদ রাষ্ট্রকে দক্ষ না করে বরং ধীর করে দিতে পারে।
অর্থাৎ মানুষ বাড়ানো আর সক্ষমতা বাড়ানো এক জিনিস নয়।
উপদেষ্টার সংখ্যা: সমান্তরাল মন্ত্রিসভা নয় তো?
তারেক রহমান সরকার শুরুতেই ১০ জন উপদেষ্টা নিয়োগ দেয়। তাঁদের পাঁচজন মন্ত্রীর এবং পাঁচজন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা পেয়েছেন। উপদেষ্টাদের মধ্যে কেউ রাজনৈতিক বিষয়ে, কেউ অর্থ ও পরিকল্পনা, কেউ জনপ্রশাসন, কেউ প্রতিরক্ষা, কেউ পররাষ্ট্র, কেউ শিক্ষা ও শ্রম, কেউ তথ্যপ্রযুক্তি এবং কেউ নীতি ও কৌশল বিষয়ে দায়িত্ব পেয়েছেন।
নীতিগতভাবে উপদেষ্টা থাকা অস্বাভাবিক নয়। বরং জটিল রাষ্ট্রীয় নীতিতে বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠবে তখনই, যখন উপদেষ্টার ভূমিকা মন্ত্রীর ভূমিকার সঙ্গে ওভারল্যাপ করবে।
বিশেষজ্ঞতার ভিত্তিতে একজন উপদেষ্টা যদি মন্ত্রণালয়কে নীতি সহায়তা দেন, সেটি এক ধরনের কাঠামো। আর যদি একই খাতে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা তিনটি আলাদা রাজনৈতিক কেন্দ্র তৈরি করেন, সেটি ভিন্ন বিষয়।
তখন প্রশ্ন ওঠে—রাষ্ট্র কি দক্ষতা বাড়াচ্ছে, নাকি পদ সৃষ্টি করছে?
তারেক রহমান সরকারের রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম দাবি ছিল ব্যয় সংকোচন ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় কমানো। প্রধানমন্ত্রী নিজেই সরকারি ব্যয় ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার ওপর জোর দিয়েছেন। জুনে পোস্ট-বাজেট ডিনার বাতিলের সিদ্ধান্তকে সরকার ব্যয় সংকোচনের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে।
এখন সেই দর্শনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হতে পারে মন্ত্রিসভার কাঠামো। কারণ রাষ্ট্রের ব্যয় শুধু মন্ত্রীদের বেতন দিয়ে হিসাব করা যায় না।
একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্ত থাকে—
সরকারি গাড়ি ও পরিবহন সুবিধা;
নিরাপত্তা ও পুলিশ প্রটোকল;
সরকারি বাসভবন বা আবাসন;
ব্যক্তিগত ও অফিস স্টাফ;
অফিস পরিচালনা;
ভ্রমণ ও সরকারি সফর;
দেশি-বিদেশি বৈঠক;
প্রটোকল ব্যয়;
প্রশাসনিক সহায়তা;
বিভিন্ন ধরনের আনুষঙ্গিক ব্যয়।
অতএব মন্ত্রীসংখ্যা বাড়ার অর্থ কেবল বেতন-ভাতা বাড়া নয়। এর সঙ্গে একটি institutional cost structure তৈরি হয়।
এই কারণেই মন্ত্রিসভার আকারকে ‘রাজনৈতিক পদ’ হিসেবে না দেখে public expenditure এবং governance efficiency-এর প্রশ্ন হিসেবে দেখা প্রয়োজন।
সংস্কৃতি, ধর্ম ও তথ্য —মন্ত্রী কি অপরিহার্য?
আরেকটি প্রশ্ন এখানে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে ধর্ম, তথ্য, সংস্কৃতি, পর্যটন ইত্যাদি খাতে পৃথক রাজনৈতিক নেতৃত্ব রয়েছে। এগুলো অপ্রয়োজনীয়, এ কথা ঠিক বলছি না। তবে এগুলো বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই নেই। বাংলাদেশের মতো সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার দেশে বাড়তি মন্ত্রনালয়কি আসলেই প্রয়োজন আছে?
একটি খাতের জন্য একজন পূর্ণমন্ত্রী প্রয়োজন, নাকি একজন প্রতিমন্ত্রী/উপদেষ্টা/সচিব পর্যায়ের প্রশাসনিক কাঠামো যথেষ্ট? আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, একই খাতে পূর্ণমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী—দুজনের প্রয়োজন কতটা?
এই প্রশ্নের উত্তর রাজনৈতিক সুবিধা দিয়ে নয়, workload analysis, institutional responsibility এবং measurable output দিয়ে নির্ধারণ করা উচিত।
অভিজ্ঞতার প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ
মন্ত্রিসভায় বেশিরভাগই অনভিজ্ঞ। সরকার গঠনের সময় ৪৯ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে ৪১ জনই প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় প্রবেশ করেছেন। ২৫ পূর্ণমন্ত্রীর মধ্যে ১৬ জন প্রথমবারের মন্ত্রী; আর ২৪ প্রতিমন্ত্রীর সবাই মন্ত্রিসভায় প্রথমবার।
একটি মন্ত্রণালয় পরিচালনার জন্য প্রয়োজন— নীতিনির্ধারণ, প্রশাসনিক জ্ঞান, বাজেট ব্যবস্থাপনা, আইন বোঝার সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, সংকট ব্যবস্থাপনা, সংশ্লিষ্ট খাতের কারিগরি জ্ঞান। এই জায়গায় মন্ত্রীর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট খাতের বিষয়ে তার সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ।
কেউ আগে মন্ত্রী ছিলেন না—এটি সমস্যা নয়। কিন্তু কেউ যদি আগে কখনো বড় কোনো প্রতিষ্ঠান, সংগঠন, প্রশাসনিক কাঠামো কিংবা জটিল নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়া পরিচালনা না করে থাকেন, তাহলে তাকে সরাসরি একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিলে প্রশ্ন উঠতেই পারে।
মন্ত্রিসভা বড় হওয়ার রাজনৈতিক অর্থ কী?
বাংলাদেশের রাজনীতিতে মন্ত্রিসভা শুধু প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান নয়। এটি রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। দলীয় নেতাদের সন্তুষ্ট রাখা, জোটের শরিকদের প্রতিনিধিত্ব দেওয়া, আঞ্চলিক ভারসাম্য তৈরি করা, বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে সরকারের সঙ্গে যুক্ত রাখা—এসব কারণে মন্ত্রিসভা বড় হওয়ার রাজনৈতিক প্রণোদনা থাকে।
২০০১ সালের ৬০ সদস্যের মন্ত্রিসভা নিয়েও জোটের অংশীদার ও তরুণ নেতাদের অন্তর্ভুক্তির রাজনৈতিক যুক্তি সামনে এসেছিল। কিন্তু রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনার এই যুক্তি যদি প্রশাসনিক দক্ষতার ওপর প্রাধান্য পায়, তাহলে মন্ত্রিসভা হয়ে উঠতে পারে political accommodation mechanism, governance mechanism নয়। এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আসল হিসাব হওয়া উচিত ‘কতজন’ নয়, ‘কেন’ রাষ্ট্র পরিচালনায় ৩০ জন মন্ত্রী ভালো, ৫০ জন খারাপ—এমন কোনো সার্বজনীন সূত্র নেই।
মূল প্রশ্ন হলো:
প্রতিটি মন্ত্রীর প্রয়োজনীয়তা কী? প্রতিটি প্রতিমন্ত্রীর measurable responsibility কী? প্রতিটি উপদেষ্টার নির্দিষ্ট deliverable কী? একই মন্ত্রণালয়ে একাধিক রাজনৈতিক নির্বাহী থাকলে তাদের কাজের সীমারেখা কী? কত টাকা ব্যয় হচ্ছে? আর সেই ব্যয়ের বিপরীতে কী ফল পাওয়া যাচ্ছে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রকাশ্যে আসা দরকার। একটি ‘Ministerial Efficiency Audit’ দরকার
সরকার যদি জনগণকে বলে—‘রাষ্ট্রের টাকা জনগণের টাকা’, তাহলে সেই নীতির প্রতিফলন সবচেয়ে আগে দেখা উচিত রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক স্তরে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে খাবারের ব্যয় কমানো, পোস্ট-বাজেট ডিনার বাতিল করা কিংবা আতিথেয়তা ব্যয় কমানো—এসব প্রতীকী পদক্ষেপ। এগুলো জনমনে ইতিবাচক বার্তা দেয়।
কিন্তু একই সঙ্গে যদি রাজনৈতিক নির্বাহীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে—সরকার কি সত্যিই ছোট ও সাশ্রয়ী রাষ্ট্র গড়ছে, নাকি একদিকে মিতব্যয়িতার প্রতীকী বার্তা দিচ্ছে আর অন্যদিকে রাজনৈতিক পদ ও কাঠামো সম্প্রসারণ করছে?
তারেক রহমান সরকারের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তাই মন্ত্রীর সংখ্যা নয়; প্রতিটি পদ কেন প্রয়োজন, তার যুক্তি জনগণের সামনে তুলে ধরা।
কারণ একদিকে ১০০ বা ১৫০ টাকার দুপুরের খাবারের বার্তা, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ব্যয়—এই দুইয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকলে ‘ব্যয় সংকোচন’ শেষ পর্যন্ত কেবল একটি রাজনৈতিক স্লোগান হয়েই থেকে যেতে পারে।

Author