
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শুরু থেকেই অনড় ছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। শনিবার সরকারের সঙ্গে দলটির তৃতীয় দফা বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে বৈঠক শুরুর প্রায় দেড় ঘণ্টা আগেই পদত্যাগের ঘোষণা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
সিজেপির আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিল দলটি। আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া কোনো অবস্থাতেই আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে না এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের সমঝোতাও গ্রহণযোগ্য হবে না। তাদের দাবি ছিল, অভিযোগের রাজনৈতিক ও নৈতিক দায় মন্ত্রীকেই নিতে হবে।
এ ইস্যুতে সরকারের সঙ্গে সিজেপির প্রতিনিধিদের দুই দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও আন্দোলনকারীরা তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। শনিবার বিকেলে তৃতীয় দফার বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন।
সিজেপি সরকারের কাছে মোট তিনটি দাবি উপস্থাপন করেছিল। প্রথম দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। দ্বিতীয় দাবি ছিল আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করার নিশ্চয়তা এবং তৃতীয় দাবি ছিল নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনার জেরে আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদান।
সরকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় দাবি মেনে নিলেও শুক্রবার পর্যন্ত প্রথম দাবি বাস্তবায়ন করেনি। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুনরায় আলোচনায় বসার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে নির্ধারিত বৈঠকের প্রায় দেড় ঘণ্টা আগেই ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
শনিবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি লেখেন, গত ১০ দিনের ঘটনাপ্রবাহে তিনি গভীরভাবে দুঃখিত। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘গত চার দশক ধরে আমি ছাত্র, শিক্ষক এবং শিক্ষা সংস্কারের জন্য নিজেকে নিবেদিত রেখেছি। আমি সবসময় বিশ্বাস করেছি, একটি শক্তিশালী ও দূরদর্শী শিক্ষাব্যবস্থাই একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের ভিত্তি।’
Author