
বুধবার সকাল ১০টার কিছু পর সৌদি আরবের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল হোয়াইট হাউসের ওয়েস্ট উইংয়ে পৌঁছায়। অনির্ধারিত এই সফরে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছে তার ভাই এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বার্তা পৌঁছে দেন।
আলোচনার সঙ্গে পরিচিত সূত্রগুলোর মতে, ওই বার্তায় সৌদি আরব স্পষ্ট করে জানায় যে তারা ইরান যুদ্ধের উত্তেজনা কমাতে চায় এবং সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা পুরো অঞ্চলের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে।
এর ঠিক একদিন আগে একই স্থানে ভিন্ন ধরনের একটি বার্তা নিয়ে হাজির হন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ওভাল অফিসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে তিনি ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার সফলতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন বলে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বরং বৈঠকে ইরানের ওপর আরও চাপ প্রয়োগের বিভিন্ন উপায়, এমনকি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার সম্ভাবনাও আলোচনা হয়।
দুটি বৈঠক কাকতালীয়ভাবে পরপর অনুষ্ঠিত হলেও, সেগুলো ট্রাম্পের সামনে থাকা জটিল বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে। নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়া এই সংঘাত থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজলেও, তিনি মিত্রদের কাছ থেকেই পরস্পরবিরোধী পরামর্শ পাচ্ছেন।
এদিকে রিপাবলিকান দলের ভেতর থেকেই যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার চাপ বাড়ছে। কিন্তু বাস্তবে সংঘাত থামার বদলে আরও বিস্তৃত হচ্ছে। নতুন নতুন যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় প্রতিটি দেশ কোনো না কোনোভাবে এই সংকটে জড়িয়ে পড়ছে। কূটনৈতিক উদ্যোগও কার্যত স্থবির। যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সরাসরি কূটনৈতিক আলোচনা দ্রুত পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত দেখা যাচ্ছে না।
যদিও ট্রাম্প দাবি করছেন, সহিংসতা বন্ধে চুক্তির জন্য ইরান ‘অনুনয়-বিনয়’ করছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তা আশঙ্কা করছেন, তেহরানের নেতৃত্ব বরং হরমুজ প্রণালির ওপর চাপ সৃষ্টি এবং ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কৌশলেই আরও দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প ইরানের অনমনীয় অবস্থানে ক্রমেই বিরক্ত হয়ে উঠছেন। এর ফলে পর্দার আড়ালে উত্তপ্ত বৈঠক হয়েছে এবং মিত্রদের সঙ্গে তার ফোনালাপে ক্ষোভ ও অশালীন ভাষার ব্যবহারও দেখা গেছে।
এই পরিস্থিতিতে গত শুক্রবার ট্রাম্প ক্যাম্প ডেভিডে তার মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকেন। অতীতে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সফল কূটনৈতিক উদ্যোগের জন্য পরিচিত এই স্থান থেকে নতুন কোনো সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়ার আশাই ছিল তার।
অচল হয়ে পড়া কূটনৈতিক প্রক্রিয়া কীভাবে পুনরুজ্জীবিত করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমরা শুধু জিততে চাই। তারা আরও দুর্বল হবে। হয়তো কিছুটা শক্তিশালী হবে, কিন্তু তারপর আবার দুর্বল হয়ে পড়বে। শেষ পর্যন্ত তারা নিজে থেকেই থেমে যাবে।”
ইরানের চলমান হুমকির কারণে ট্রাম্পকে নিজের সফর পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন আনতে হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, চলতি মাসের শুরুতে তুরস্ক সফর শেষে ফেরার পথে নিরাপত্তাজনিত কারণে তাকে নির্ধারিত এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমান পরিবর্তন করতে হয়। ইরানের বাড়তি হুমকির প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ট্রাম্প এতে ক্ষুব্ধ ও বিব্রত হন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ অনেক মিত্র এখন উদ্বিগ্ন যে, ইরান যুদ্ধ তার পুরো প্রেসিডেন্সিকেই সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এর প্রভাব আসন্ন মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সম্ভাবনাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে মনে করছেন দলটির একাধিক কৌশলবিদ। এ সপ্তাহে প্রকাশিত সিএনএনের এক জরিপে দেখা গেছে, ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ২৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিক।
প্রণালি পুনরায় খুলতে চাপ বাড়ায় নতুন সিদ্ধান্তের মুখে ট্রাম্প
হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার চাপ বাড়তে থাকায় সংঘাত আরও বাড়ানোর বিভিন্ন সামরিক বিকল্প ট্রাম্পের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। এসব পরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে এবং প্রেসিডেন্টের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত মার্কিন সামরিক সক্ষমতাও মোতায়েন করা হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) প্রণীত একটি পরিকল্পনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করতে এক থেকে দুই সপ্তাহব্যাপী ব্যাপক বিমান হামলার প্রস্তাব রয়েছে।
শুক্রবার সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি সংঘাত আরও বড় পরিসরে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, “আমরা বড় পদক্ষেপই নিচ্ছি। আমরা ইতোমধ্যেই বড় পদক্ষেপ নিয়েছি।”
তবে গত সপ্তাহে ক্যাপিটল হিলে অনুষ্ঠিত এক শুনানিতে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, শুধু বিমান হামলার মাধ্যমে ট্রাম্পের ঘোষিত সব যুদ্ধ-লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে—এমন সম্ভাবনা খুবই কম।
তিনি আইনপ্রণেতাদের বলেন, “বিমান শক্তিরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।”
এদিকে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত আরও বড় ধরনের হামলার অনুমোদন দেননি। এর একটি কারণ হলো, জেনারেল কেইন তাকে জানিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে আসছে।
এ ছাড়া, সেতু ও লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা চালানো হলে বিপুল সংখ্যক বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—এমন উদ্বেগও প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে জানিয়েছেন।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “ওখানে আমি কাকে আঘাত করব? আমি তো সাধারণ মানুষকেই আঘাত করব। তাই আমি সেটা করতে চাই না।”
বর্তমানে আঞ্চলিক বিভিন্ন পক্ষের কূটনৈতিক আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো একটি স্বল্পমেয়াদি সমঝোতা, যার লক্ষ্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের মতে, এমন একটি সমঝোতা হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিকে নিজের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে পারবেন।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন ব্যাখ্যার পর থেকেই হরমুজ প্রণালি এই সংঘাতের প্রধান ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
রিপাবলিকান নেতারা এতদিন যুদ্ধ ইস্যুতে ট্রাম্পকে সমর্থন দিলেও এখন তারা ক্রমবর্ধমান জ্বালানির দাম নিয়ে উদ্বিগ্ন। দলটির কৌশলবিদদের ভাষ্য, ব্যক্তিগত আলোচনায় তারা ট্রাম্প প্রশাসনকে দ্রুত হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার গুরুত্বের কথা জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, জ্বালানির উচ্চমূল্য আসন্ন মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা জন থুন এ সপ্তাহে বলেন, “অবশ্যই আমরা সেখানে সফলতা চাই। আমাদের বিশ্বাস, আমরা সামরিক দিক থেকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছি। এখন প্রশ্ন হলো হরমুজ প্রণালি। প্রেসিডেন্ট এবং তার দল এ বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। আশা করি, খুব শিগগিরই তারা একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বা ফলাফলে পৌঁছাতে পারবেন।”
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে গ্রহণযোগ্য শর্তে আলোচনায় ফিরে না আসা পর্যন্ত ইরানকে এর মূল্য দিতে হবে।
এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছিল। কিন্তু ইরান তা লঙ্ঘন করেছে, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে এবং মার্কিন সেনাদের হত্যা করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন সন্ত্রাসী আচরণ মেনে নেবেন না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেভাবে অর্থবহ মনে করেন, সেভাবে আলোচনার টেবিলে ফিরে না আসা পর্যন্ত ইরানকে এর মূল্য দিতেই হবে।”
ইরানের নেতৃত্বে বিভক্তি, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ছে
কাতার ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী দেশ দ্রুত কূটনৈতিক আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চালালেও বাস্তবে কোনো সক্রিয় আলোচনার লক্ষণ খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। বরং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ইরানের প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এখন সিদ্ধান্ত গ্রহণের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে। ফলে যেসব রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে এতদিন যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা চালিয়ে আসছিল, তারা কার্যত নামমাত্র নেতৃত্বে পরিণত হয়েছেন।
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে আইআরজিসির অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই। সংস্থাটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার নিজেদের প্রভাব বিস্তারে প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের মতে, এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বই সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।
এ সপ্তাহে ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের নেতৃত্বের এই বিভক্তির ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, ইরান থেকে মার্কিন অবস্থান লক্ষ্য করে যেসব হামলার চেষ্টা হয়েছে, তা তার প্রশাসন যাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, তাদের নির্দেশে পরিচালিত হয়নি।
ট্রাম্প বলেন, “ওরা আমাদের আলোচনায় থাকা দলটি নয়। এটি ভিন্ন একটি গোষ্ঠী। তারা ইতোমধ্যেই ক্ষমা চেয়েছে।”
ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, ইরানের ভেতরে আসলে কারা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা বোঝা অত্যন্ত কঠিন। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের মধ্যে কোনো সমঝোতা হওয়া নিয়েও তিনি মাঝে মাঝে সংশয় প্রকাশ করেন।
শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে তিনি বলেন, “অনেকে আলোচনা করতে চায়, কিন্তু তারা বারবার কথা ভঙ্গ করে। তারা যা করে, তাতে শুধু আমার রাগই বাড়ে। সত্যি বলতে, তারা আমাকে শুধু ক্ষুব্ধই করে।”
তবে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার এখনো বিশ্বাস করেন, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব।
এ সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকে উইটকফসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের বিষয়ে অবগত ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবেই ট্রাম্পকে জানিয়েছেন যে, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধান কার্যকর হবে বলে তিনি মনে করেন না।
এর পরিবর্তে, দুই নেতা ইরানের ওপর চাপ আরও বাড়ানোর বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। এর মধ্যে সামরিক হামলা আরও জোরদার করা এবং অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর বিষয়ও ছিল।
এক ইসরায়েলি কর্মকর্তার ভাষ্য, বৈঠকে নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করেন যে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র মার্কিন প্রেসিডেন্টেরই রয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি সেই ধারণা খণ্ডন করতে চেয়েছেন যে, যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার জন্য ইসরায়েল ট্রাম্পকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
বৈঠকে উপস্থিত এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা পরে বলেন, “আমরা এখন কী করা যায়, সেটি নিয়ে আলোচনা করছি। এমন পরিস্থিতির জন্য কোনো পাঠ্যবইয়ে লেখা প্রস্তুত সমাধান নেই।”
এর পরদিনই সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান হোয়াইট হাউসে এসে ট্রাম্পকে সৌদি আরবের নিজস্ব মূল্যায়ন তুলে ধরেন। সৌদি যুবরাজ ও দেশটির কার্যত শাসক মোহাম্মদ বিন সালমানের ঘনিষ্ঠ এই প্রতিনিধি দলের সফর ছিল সংক্ষিপ্ত। সফরটি মূলত আগের সপ্তাহে হওয়ার কথা থাকলেও পরে তা পিছিয়ে যায়। হোয়াইট হাউসের বৈঠক শেষে তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই ওয়াশিংটন ত্যাগ করেন।
এ সপ্তাহে ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযান চালালেও সৌদি আরব এখনো সংঘাতের উত্তেজনা কমানোর পক্ষেই রয়েছে। আলোচনার বিষয়ে অবগত একাধিক সূত্রের মতে, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে এ কথাই জানিয়েছেন।
সূত্রগুলো জানায়, সৌদি আরবের সামরিক পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট করে দেওয়া যে, দেশটি নিজের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রস্তুত এবং তাদের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর যেকোনো হামলাকে তারা ‘লাল রেখা’ হিসেবে বিবেচনা করে। এমন হামলার জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকেও বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, এটি তাদের লড়াই নয় এবং এই যুদ্ধে তাদের জড়ানো উচিত নয়।
সূত্রগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান উত্তেজনা বাড়িয়ে কৌশলগত সুবিধা আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাবে। এ লক্ষ্যে তারা ইরাক ও ইয়েমেনে নিজেদের মিত্র মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার অব্যাহত রাখতে পারে।
আলোচনার সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র সিএনএনকে জানায়, “প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মূল বার্তা ছিল—এই উত্তেজনা বাড়ানোর পেছনে নেতানিয়াহুই প্রধান ভূমিকা রাখছেন, অথচ সৌদি আরব চায় পরিস্থিতি শান্ত হোক এবং উত্তেজনা কমে আসুক।”
তবে ওই বৈঠকগুলো থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঠিক কী বার্তা গ্রহণ করেছেন, তা স্পষ্ট নয়। যদিও কয়েক ঘণ্টা পর তিনি দাবি করেন, মিসর ও সৌদি আরবের মতো নতুন আঞ্চলিক পক্ষ জড়িয়ে পড়ায় সংঘাতের পরিধি বাড়লেও পরিস্থিতির শিগগিরই সমাধান হবে।
বুধবার ট্রাম্প বলেন, “পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে।” এরপর তিনি রাতে আরও পাল্টা হামলার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “এখন আমাদের পালা। কোনো এক সময় হয়তো আমরা একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারব। কিন্তু তার আগে আমরা তাদের ওপর খুবই কঠোর আঘাত হানব।”
(সিএনএনের এই বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনটি পলিসি পেপারের পাঠকদের জন্য বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে।)
Author