
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরান ইস্যুতে এমন এক সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছেন, যেখানে তাঁকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। তবে প্রতিবারই এমন পরিস্থিতিতে তাঁর সামনে থাকা বিকল্পগুলো আরও সীমিত হয়ে পড়ছে এবং যে পথই তিনি বেছে নিন না কেন, তার রাজনৈতিক ও সামরিক মূল্য আরও বাড়ছে।
ট্রাম্প প্রশাসন রোববার জানিয়েছে, টানা ১৩ রাত বিমান হামলার পর এখন টানা তৃতীয় রাতের মতো হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে, যাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য কিছুটা সুযোগ তৈরি হয়। তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, প্রয়োজনে আবারও হামলা বাড়ানোর জন্য তারা "সম্পূর্ণ প্রস্তুত" রয়েছে।
কূটনৈতিক তৎপরতার কিছু ইঙ্গিতও দেখা যাচ্ছে। ইরান জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ওমানের সঙ্গে উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মূল কারণ—হরমুজ প্রণালীর নৌপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার দাবিতে—তেহরান তার অবস্থান থেকে সরে আসবে।
ফলে ট্রাম্প আবারও পরিচিত এক পরিস্থিতিতে ফিরে এসেছেন। তিনি ব্যাপক বিমান হামলার মাধ্যমে ইরানকে ছাড় দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু প্রথম দফার সংঘাতের পর যেমন এই কৌশল সফল হয়নি, এবারও তেমন কোনো সাফল্যের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র চাইলে স্থলবাহিনী মোতায়েন করে চাপ আরও বাড়াতে পারে, যা মার্কিন সামরিক সক্ষমতার সুবিধা কাজে লাগাতে পারে। কিন্তু সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সেনা হতাহতের ঝুঁকি নিতে হবে। তাছাড়া, এমন একটি যুদ্ধের মধ্যে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও থাকবে, যা ইতোমধ্যেই মার্কিন জনগণের কাছে ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয়।
যে যুদ্ধকে ট্রাম্প কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হবে বলে দাবি করেছিলেন, সেই যুদ্ধের প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেছে। এই সময়জুড়ে তিনি তেহরানের বিরুদ্ধে কৌশলগত সুবিধা তৈরির চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু বাস্তবে তাঁর এই কৌশল যেন ক্রমেই তাঁর বিকল্পগুলো সংকুচিত করছে এবং তাঁকে আরও কঠিন ও ব্যয়বহুল সিদ্ধান্তের মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছে।
এদিকে রাজনৈতিক চাপও ক্রমেই বাড়ছে। গত সপ্তাহে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে যুদ্ধের বিরোধিতা করা অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকের অসন্তোষও আরও বাড়তে পারে। যদিও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম রোববার ৫ শতাংশের বেশি কমেছে।
অন্যদিকে, লোহিত সাগর হয়ে বিকল্প তেল পরিবহন পথও এখন হুমকির মুখে। কারণ, ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা ওই রুটকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিচ্ছে। একই সময়ে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের মজুতও আশঙ্কাজনকভাবে কমে আসছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।
এসব ঘটছে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচনের ঠিক আগে। এমনিতেই ওই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত কয়েক সপ্তাহের মতো এবারও ট্রাম্পের সামনে থাকা বিকল্পগুলো খুব একটা গ্রহণযোগ্য নয়। সম্ভবত এ কারণেই গত সপ্তাহে তাঁর অবস্থানে বারবার পরিবর্তন দেখা গেছে। একদিকে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিয়েছেন, অন্যদিকে আবার দাবি করেছেন, ইরান আলোচনায় বসার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।
কিন্তু যুদ্ধের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে না পারায়, এসব বক্তব্য তেহরানের উদ্দেশে যতটা না দেওয়া হয়েছে, তার চেয়ে বেশি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক শ্রোতাদের উদ্দেশেই দেওয়া হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
ট্রাম্প চাইলে গত সপ্তাহে দেওয়া তাঁর কঠোর হুমকিগুলো বাস্তবেও কার্যকর করতে পারেন। সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের আরও বিস্তৃত এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করার ধারাবাহিকতায় তিনি দেশটির পরিবহন অবকাঠামো ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ইরানের অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলতে পারেন। তবে এমন পদক্ষেপের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হবেন সাধারণ ইরানি নাগরিকরা—যাদের পাশে দাঁড়ানোর কথাই যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প বলেছিলেন। এমনকি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের অনেকেরই ধারণা, এ ধরনের হামলায় তেহরানের কঠোর অবস্থানেও তেমন পরিবর্তন আসবে না।
সিএনএনের জ্যাকারি কোহেন ও জিম শিউট্টোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসের এক বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন যুদ্ধ আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র ও এক মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ড্যান কেইনের প্রধান উদ্বেগ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুতের ওপর সম্ভাব্য চাপ। এর আগে সিএনএনের কেটি বো লিলিস জানিয়েছিলেন, সিআইএ এবং ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির সাম্প্রতিক মূল্যায়নেও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের বোমা হামলা চালিয়েছে, তা ইরানের আলোচনার অবস্থান পরিবর্তনে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
আরেকটি বিকল্প হতে পারে, ইরানের জাহাজ ও সমুদ্রবন্দরের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধ আরও কঠোর করা। এর উদ্দেশ্য হবে ইরান সরকারের অর্থায়নের পথ এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আয়ের উৎস সংকুচিত করা। তবে এই কৌশলেরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এর ফল পেতে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস সময় লাগতে পারে, তবুও তেহরানের নীতিগত অবস্থান বদলানোর নিশ্চয়তা নেই। তাছাড়া, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ধৈর্য কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা তাঁকে এত দীর্ঘমেয়াদি কৌশল অনুসরণের সুযোগ দেবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে, ইরানও এর জবাবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে হামলা পুনরায় শুরু করতে পারে। এতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যুদ্ধের অভিঘাত আরও তীব্র হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর রাজনৈতিক চাপও বাড়বে।
তৃতীয় একটি সম্ভাবনা হতে পারে, অল্প সময়ের জন্য কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির ভিত্তি হিসেবে যে সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং বা এমওইউ) হয়েছিল, সেটিকে আবারও কার্যকর করার চেষ্টা করা। কিন্তু তেহরান সম্ভবত তাতে রাজি হবে না, যদি না তারা শুরু থেকেই যে বিষয়টিকে ওই সমঝোতার অংশ বলে মনে করেছিল—অর্থাৎ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও সেখান থেকে রাজস্ব আদায়ের অধিকার—তা নিশ্চিত করতে পারে।
এমনটি হলে সেটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি কৌশলগত পরাজয় হিসেবে বিবেচিত হবে। কারণ যুদ্ধ শুরুর আগে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। অন্যদিকে, যদি ট্রাম্প ইরানকে আগের সমঝোতার চেয়েও বেশি সুবিধা দিয়ে নতুন কোনো চুক্তি করেন—যেখানে নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং আঞ্চলিক পুনর্গঠন তহবিলের মতো সুবিধাও ছিল—তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি-সংক্রান্ত কট্টরপন্থী মহল থেকে তিনি তীব্র রাজনৈতিক সমালোচনার মুখে পড়বেন।
সব পক্ষই যেন নতুন কোনো কার্যকর কৌশলের খোঁজে রয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে, রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি রোববার সিএনএনের "স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন" অনুষ্ঠানে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উচিত একটি "জাতীয় সংলাপ" শুরু করা।
তিনি বলেন, "প্রেসিডেন্টের উচিত আমেরিকান জনগণের সামনে আসা, কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনা করা এবং কংগ্রেসের সহায়তায় এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া। আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার অন্য কোনো পথ কি আছে?"
সিএনএনের উপস্থাপক ডানা ব্যাশকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যাসিডি বলেন, তিনি এমন একটি সমাধান চান, যাতে ইরান হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ না পায় এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে এমন একটি যুদ্ধে কয়েক দশ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে না হয়, যার এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ফলাফল দেখা যায়নি।
কিন্তু ট্রাম্পের বর্তমান সংকটের সবচেয়ে বড় দিকটি হলো, যুদ্ধের পাঁচ মাস পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কেউই এমন কোনো বাস্তবসম্মত বিকল্প কৌশল সামনে আনতে পারেনি, যা সত্যিকার অর্থে এই অচলাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার পথ দেখাতে পারে। জয়ের নিশ্চয়তা নেই—এমন পরিস্থিতি থেকে কি বের হওয়ার পথ খুঁজে পাবেন ট্রাম্প?
রোববার বিভিন্ন টকশোতে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিবর্তিত কৌশল এবং যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাব্য পথ ব্যাখ্যা করার দায়িত্ব দেওয়া হয় জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজকে।
ওয়াল্টজ মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি প্রসঙ্গ তুলে ধরেন, যা ট্রাম্প যুদ্ধ আরও তীব্র করতে পারেন—এমন জল্পনাকে উসকে দিয়েছে। সিবিএসের "ফেস দ্য নেশন" অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, "প্রেসিডেন্ট যখন বলেন, ‘আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত’ (locked and loaded), তখন ইরানের শাসকদের তা বিশ্বাস করা উচিত। কারণ সব ধরনের বিকল্পই আমাদের সামনে খোলা রয়েছে।"
এনবিসির "মিট দ্য প্রেস" অনুষ্ঠানে ওয়াল্টজ আরও বলেন, "ইরান এখন কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন, অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন এবং সামরিকভাবে বিধ্বস্ত। তারা কখনোই এতটা দুর্বল ছিল না। আমরা শক্তিশালী অবস্থান থেকেই আলোচনা করছি।"
সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁর এই বক্তব্য সত্য হতে পারে। কিন্তু এই যুদ্ধের অসম (asymmetric) চরিত্রের কারণে, যতদিন ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারবে, ততদিন যুদ্ধের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়ার সক্ষমতাও তাদের থাকবে।
অন্যদিকে, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পরও ইরানের শাসনব্যবস্থা টিকে থাকায় এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো বৈশ্বিক পরাশক্তির মুখোমুখি হয়েও তেহরান এখনো নিজের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম।
এদিকে ইরানের যুদ্ধ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিক বোঝাও হয়ে উঠছে। সিবিএস নিউজ ও ইউগভের নতুন এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের পরস্পরবিরোধী বার্তার কারণে পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক বিভ্রান্তি রয়েছে। জরিপে মাত্র ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেছেন, হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁদের পরিষ্কার ধারণা রয়েছে।
এছাড়া মাত্র ৪০ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। আর ৭৬ শতাংশ মানুষের মতে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ট্রাম্প প্রশাসন যে মাত্রায় কঠিন হবে বলে ধারণা করেছিল, বাস্তবে তার চেয়েও বেশি কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে ওয়াল্টজের দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য ইতিহাস ইতিবাচকভাবেই মূল্যায়ন করবে। এনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "কখনও কখনও কোনো লক্ষ্য অর্জন প্রথমে যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।"
কয়েক মাস ধরে ট্রাম্প এমন একটি কৌশল অনুসরণ করছেন, যার উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী স্থলযুদ্ধে জড়ানো ছাড়াই ইরানকে নতি স্বীকারে বাধ্য করা। নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি যেসব যুদ্ধের সমালোচনা করেছিলেন, সেগুলোর পুনরাবৃত্তি এড়াতেই তিনি এমন অবস্থান নিয়েছিলেন।
কিন্তু যুদ্ধের বাস্তবতা দেখাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র নিজের জন্য যে সীমারেখা নির্ধারণ করেছে, তার মধ্যে থেকে এই যুদ্ধ জেতা হয়তো সম্ভব নয়। সংঘাতকে আরও এক ধাপ বাড়ালেও শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প আবারও একই কঠিন ও অস্বস্তিকর সংকটের মুখোমুখি হতে পারেন।
অন্যদিকে, এমন কোনো সুস্পষ্ট কূটনৈতিক পথও এখন দৃশ্যমান নয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত লক্ষ্য পূরণ করে একটি টেকসই শান্তিচুক্তির দিকে নিয়ে যেতে পারে।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন এক সংকটের রূপ নিয়েছে, যেখানে যে পথই বেছে নেওয়া হোক না কেন, স্পষ্ট কোনো বিজয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। এক কথায়, এটি যেন একটি ‘নো-উইন সিচুয়েশন’—যেখানে জয়ের কোনো সহজ বা নিশ্চিত পথ নেই।
(স্টিফেন কলিনসন সিএনএনের (CNN) একজন জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রতিবেদক। ইরান সংকট, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে তৈরি হওয়া কৌশলগত সংকট নিয়ে তাঁর প্রকাশিত বিশ্লেষণটি পলিসি পেপারের পাঠকদের জন্য বাংলায় উপস্থাপন করা হলো।)

Author