
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে মুষলধারে বৃষ্টিপাতের মধ্যেই এইচএসসি ও সমমানের তিনটি বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তকে অপরিকল্পিত ও বাস্তবতাবিবর্জিত বলে সমালোচনা করছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত মাত্র ২৭ ঘণ্টায় ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকায় সড়ক, অলিগলি ও নিম্নাঞ্চলে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে কর্মজীবী মানুষের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা।

চলমান বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড এবং ওই বোর্ডের অধীনস্থ মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার ১৩, ১৫ ও ১৬ জুলাইয়ের পরীক্ষা আগেই স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু দেশের অন্যান্য অঞ্চলে একই ধরনের বৈরী আবহাওয়া ও জলাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবার সকাল থেকেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রবল বৃষ্টির মধ্যে ভিজে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে দেখা যায়। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও কোমরসমান পানি অতিক্রম করে কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। অনেককে ভেজা পোশাকেই তিন ঘণ্টার পরীক্ষা দিতে হয়েছে। কোথাও কোথাও শিক্ষার্থীদের পানিতে পিছলে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।

এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির কিছু ভাইরার ভিডিও ছাবিতে দেয়া যায় নৌকা, রিক্সা কিংবা ভ্যানে করে পরিক্ষা কেন্দ্রে যেতে পানিতে পড়ে যায় শিক্ষার্থীরা। ঢাকার বাহিরের জেলা গুলোর মধ্যে কুমিল্লা সিটি করপোরেশান এলাক পনির নিচে তলিয়ে যায়। হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে যায় নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকা। কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ এবং কুমিল্লা সরকারি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে জলাবদ্ধতার কারণে অনেক শিক্ষার্থীকে কোমরসমান পানি পেরিয়ে কিংবা নৌকায় করে কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়।

এমন দৃশ্য দেশের অন্য জেলাগুলোতেও দেখা যায়। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনেকেই মনে করছেন, এমন বৈরী আবহাওয়া, জলাবদ্ধতা এবং দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়ার পরিবর্তে কয়েক দিনের জন্য পরীক্ষা স্থগিত করা হলে অযথা এই দুর্ভোগ এড়ানো সম্ভব হতো।

তাদের অভিযোগ, বাস্তব পরিস্থিতি যথাযথভাবে বিবেচনা না করেই পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার খেসারত দিতে হয়েছে লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারকে।
যদিও বন্যাকবলিত পাঁচ জেলায় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে, তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে একই ধরনের দুর্ভোগ থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, শারীরিক সক্ষমতা এবং সমান পরীক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত না করে পরীক্ষা নেওয়া কতটা যৌক্তিক।
Author