
নয়াদিল্লির কৌশলগত নজর এখন ক্রমেই বেশি করে নিবদ্ধ হচ্ছে বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে, আর সেই সমীকরণের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সামুদ্রিক কৌশল এবং ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ঢাকার গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় দিল্লির কাছে অনেক বেশি।
কয়েক বছর আগেও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের জন্য বাংলাদেশকেই দিল্লির আগ্রহের অপেক্ষায় থাকতে হতো। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেই সমীকরণেও এখন উল্টে গেছে। বিমসটেক সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক অধিবেশন শুরুর আগেই ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের প্রধানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক সেই পরিবর্তিত বাস্তবতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে।
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিমসটেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সম্মেলনের সাইডলাইনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম এবং ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি দুই দেশের নিরাপত্তা ও কৌশলগত সম্পর্কের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
বুধবার (১৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকের আলোচ্যসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, সন্ত্রাসবাদ দমন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং উদীয়মান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্র বলছে, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের কারণেই ভারতের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে। চীনের কাছ থেকে ২৪টি অত্যাধুনিক জে-১০সিই বিমান কেনা, মালাক্কা প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ, বঙ্গোপসাগরে গভীর সমুদ্রবন্দর এবং তিস্তা ব্যারাজ ইস্যুতেই ভারত মূলত বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে।
সে ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতে বাংলাদেশের আগ্রহ শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং বাণিজ্য।
এবারের বিমসটেক নিরাপত্তা সম্মেলনের আয়োজক ভারত হলেও সভাপতিত্ব করছে বাংলাদেশ। ফলে এই সম্মেলনে ঢাকার ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এ কে এম শামছুল ইসলাম।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বঙ্গোপসাগর এখন ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর কৌশলগত প্রতিযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সঙ্গে নিরাপত্তা সংলাপ ভারতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিমসটেকের নিরাপত্তা সহযোগিতা কাঠামোর আওতায় সদস্য রাষ্ট্রগুলো সন্ত্রাসবাদ দমন, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, সাইবার নিরাপত্তা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও ভারতের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
Author