
সরকার গঠনের পর এই প্রথম কোনো মন্ত্রীকে ঘিরে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও জনমতের চাপে পড়েছে তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকার। বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, অসংগত মন্তব্য এবং শিক্ষার্থীদের "ফার্মের মুরগি"র সঙ্গে তুলনা করার অভিযোগের পর রাজপথে নেমেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো তারা শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন।
শিক্ষার্থীদের এই দাবির সঙ্গে বিরোধী দলের কিছু নেতাকর্মীও সংহতি প্রকাশ করেছেন। যদিও এ বিষয়ে দলীয়ভাবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
সরকার গঠনের পর থেকে বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে আলোচনায় থাকা মন্ত্রীদের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী অন্যতম। মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের দিন মূল ফটকে লাফদিয়ে দিয়ে প্রবেশের ঘটনা এবং তাঁর আচরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ট্রল হয়। এরপর দায়িত্ব নেওয়ার পরও বিভিন্ন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি একাধিকবার সমালোচনার মুখে পড়েন।

শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে তিনি শৃজনশীল শিক্ষা ব্যবস্থায় নকলের প্রবণতা নিয়ে মন্তব্য করেন। বিভিন্ন সময় পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে নকল ধরার উদ্যোগ এবং কিছু অপ্রয়োজনীয় মন্তব্যের কারণেও তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেন। পরিক্ষার হলে জানালা দিয়ে উকিঁঝুকি মারাকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয়বার ট্রলের শিকার হয় তিনি।
বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, ২০০৭ সালের ১/১১-পরবর্তী মঈন উদ্দিন–ফখরুদ্দিন সরকারের সময় খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার যে পরিকল্পনার অভিযোগ উঠেছিল, সেখানে এহছানুল হক মিলনের নামও আলোচনায় আসে। এ কারণে দীর্ঘ সময় ধরে তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খুব একটা ঘনিষ্ঠ ছিল না বলেও দলীয় মহলে আলোচনা রয়েছে।
এছাড়া বিএনপি বিরোধী বিভিন্ন মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগের কারণে দীর্ঘদিন তিনি বিএনপির কোনো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কমিটিতেও ছিলেন না। ফলে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর হঠাৎ করে তাঁকে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ায় দলের অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীও বিস্ময় প্রকাশ করেন।
সমালোচকদের মতে, ক্ষমতায় এসে তিনি নব্বইয়ের দশকের মানসিকতা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিচালনার চেষ্টা করছেন। বিতর্কিত বক্তব্যের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ দেখা যায়। অনেক শিক্ষার্থী তাঁর মন্তব্যকে মেধা বিকশিত না হওয়া অপরিপক্ব বলে আখ্যায়িত করেন।
মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে রাজধানী ঢাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন কর্মজীবী মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজপথ—উভয় জায়গাতেই অনেক সাধারণ মানুষকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানাতে দেখা যায়।
এমন পরিস্থিতিতে, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর মতে, দলীয় নেতৃত্ব চাইুক বা না চাইুক, শিক্ষামন্ত্রীকে ঘিরে চলমান বিতর্ক সরকারের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে। তাঁদের আশঙ্কা, এহছানুল হক মিলনকে ঘিরে সৃষ্ট ইস্যুই তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের জন্য প্রথম বড় রাজনৈতিক হোঁচট হয়ে দাঁড়াতে পারে।
Author