
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের (চুপ্পু) সম্ভাব্য পদত্যাগকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গোপন ফোনালাপের বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ বা অপসারণের প্রক্রিয়া কার্যত শুরু হয়।
চলতি বছরের মে মাসে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থানকালে রাষ্ট্রপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। পরে গোয়েন্দা সংস্থার নজরে বিষয়টি এলে সরকারের উচ্চপর্যায়ে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। এরপরই তাকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর।
তবে বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য পদত্যাগের পেছনে শুধু ওই ফোনালাপই নয়, আরও কয়েকটি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বিষয়ও কাজ করছে। তার মতে, শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা এবং আওয়ামী লীগের পুনর্গঠনের নানা তৎপরতার প্রেক্ষাপটে সরকার রাজনৈতিকভাবে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের ভাষ্য, গণঅভ্যুত্থান-পূর্ববর্তী সময়ের কোনো ব্যক্তিকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বহাল রাখা এখন আর সরকারের কাছে সমীচীন মনে হচ্ছে না। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির আগের রাজনৈতিক যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের চেষ্টার তথ্যও সরকারের অসন্তোষের কারণ হয়ে
উঠেছে বলে দাবি ওই সূত্রের।
এদিকে বঙ্গভবন-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, এক-দুই দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। যদিও রাষ্ট্রপতির পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ২৯ জুলাই চারটি দেশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূতদের পরিচয়পত্র গ্রহণের একটি অনুষ্ঠান রয়েছে।
তবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সরকার বা বঙ্গভবনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিবের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
Author