ছয় মাসের ‘পরীক্ষায়’ কারা পাস, কারা বাদ—তারেক সরকারের রেজাল্ট শিট প্রস্তুতের গুঞ্জন

চলতি আগস্টেই পূর্ণ হতে যাচ্ছে তারেক রহমান সরকারের ছয় মাস। সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ড, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের পারফরম্যান্স এবং রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা মূল্যায়ন করে একটি ‘রেজাল্ট শিট’ প্রস্তুত হয়েছে—এমন আলোচনা এখন বিএনপির অভ্যন্তরে। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই চলতি মাসে মন্ত্রিসভায় রদবদল হতে পারে বলে দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি।
বিএনপির অভ্যন্তরীণ আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মন্ত্রিসভায় আসন সংখ্যা নির্ধারিত। ফলে যারা প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি, তাদের জায়গায় নতুন মুখ আনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কম নম্বর পাওয়া মন্ত্রীদের আগামী সাড়ে চার বছর একই পদে বহাল রেখে সরকার পরিচালনা করতে আগ্রহী নন—এমন একটি বার্তাও দলের ভেতরে আলোচিত হচ্ছে।
বাদ পড়ার আলোচনায় শিক্ষামন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সম্ভাব্য রদবদলের আলোচনায় সবার আগে উঠে আসছে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের নাম। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে পরীক্ষা ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে তার বিভিন্ন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক সরকারের অভ্যন্তরে মূল্যায়নের অংশ হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের নামও সম্ভাব্য বাদ পড়ার তালিকায় রয়েছে বলে আলোচনা আছে। স্বাস্থ্য খাতের সঙ্গে সরাসরি পেশাগতভাবে যুক্ত নন—এমন একজনকে গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও দলের ভেতরে প্রশ্ন উঠেছে বলে জানা গেছে।
এবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন এলে একজন পেশাদার বা স্বাস্থ্য খাতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ব্যক্তিকে টেকনোক্র্যাট কোটায় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় থাকতে পারে। দলীয় পর্যায়ে এমন সম্ভাবনার আলোচনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী জোবায়দা রহমানের পরামর্শও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে—এমন কথাও বিএনপির অভ্যন্তরে শোনা যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সরকারেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত
সম্ভাব্য রদবদলের তালিকায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রবিউল ইসলামের নামও আলোচিত হচ্ছে।
তার বিরুদ্ধে নিজ নির্বাচনী এলাকা ও দেশের বিভিন্ন উপজেলা নিয়ে বিতর্কিত উদ্যোগের অভিযোগ নিয়ে দলীয় পর্যায়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে সূত্রগুলো দাবি করছে। বিশেষ করে সরকারি প্রতিষ্ঠান বা প্রশাসনিক কাঠামোকে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক প্রভাবের আওতায় আনার অভিযোগের বিষয়ে সরকার এখন বাড়তি রাজনৈতিক ঝুঁকি নিতে চাইছে না—এমন আলোচনা রয়েছে।
রবিউল ইসলামকে সরিয়ে দেওয়া হলে তার জায়গায় বিএনপির সাবেক ছাত্রনেতা ও দলের দীর্ঘদিনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হাবিবুর নবী খান সোহেলকে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
মন্ত্রীদের পাশাপাশি নজরে উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধানরাও
শুধু মন্ত্রিসভা নয়, সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী এবং স্বায়ত্তশাসিত ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের পারফরম্যান্সও মূল্যায়নের আওতায় এসেছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি।
প্রথম ছয় মাসে কে কতটা কার্যকর ছিলেন, কে সরকারের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন এবং কার বিরুদ্ধে বিতর্ক তৈরি হয়েছে—এসব বিষয়কে মূল্যায়নের অন্যতম মানদণ্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
অর্থাৎ সম্ভাব্য রদবদল শুধু কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। সরকারের বিভিন্ন স্তরে একযোগে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
১৭ আগস্টের আগে নয়?
দলীয় সূত্রগুলোর দাবি, সরকারের ছয় মাস পূর্তিকে সামনে রেখে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত আগস্টের প্রথমার্ধে কার্যকর না-ও হতে পারে।
আলোচনায় সবচেয়ে বেশি যে সময়সীমার কথা শোনা যাচ্ছে, তা হলো ১৭ আগস্টের পর। অর্থাৎ আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে মন্ত্রিসভা ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে পরিবর্তনের ঘোষণা আসতে পারে।
তবে শেষ পর্যন্ত কারা থাকছেন, কারা যাচ্ছেন এবং কার জায়গায় কে আসছেন—তা নির্ভর করবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।
ছয় মাসের পরীক্ষায় সরকারের মন্ত্রীদের ‘রেজাল্ট শিট’ সত্যিই তৈরি হয়েছে কি না, আর হয়ে থাকলে সেই শিটে কার নামের পাশে ‘পাস’ আর কার পাশে ‘ফেল’ লেখা হয়েছে—আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধেই তার উত্তর মিলতে পারে।
Author