
ফুটবল সম্ভবত মেসির চেয়ে সুন্দর কিছু কখনও দেখেনি। বাগানে ফুটে থাকা সবচেয়ে সুন্দর গোলাপ।
দুই দিন আগে পলিসি পেপারেই লিখেছিলাম। ফাইনালে একেবারেই নিষ্প্রভ থাকার পরও এ কথা মিথ্যা নয়। ২০১৪ সালের আগ পর্যন্ত লম্বা একটা সময় একটা প্রজন্ম কেন আর্জেন্টিনাকে সাপোর্ট করতো তা বলা মুশকিল। এই নিবন্ধের লেখকের বেলাতেও এ কথা প্রযোজ্য। কিন্তু গত এক যুগে ছোট্ট জাদুকর কি দেননি!
সর্বশেষ চারটি বিশ্বকাপের তিনটির ফাইনালে খেলেছে আর্জেন্টিনা। এর মধ্যে একটি জিতেছে, দুটি হেরেছে।
এবারের ফাইনালে স্পেন ছিল অনবদ্য। তারা আসলে আর্জেন্টিনাকে বলই দেয়নি। লিওনেল মেসিও শেষ ক’ মিনিট ছাড়া বলের নাগাল পাননি।
ফাইনালের পর সারা দুনিয়া দেখেছে মেসি কাঁদছেন। এ বিশ্বকাপে মিশরের ম্যাচেও তাকে কাঁদতে দেখা গেছে। ফুটবলের আবেগী রাজপুত্র। এই ৩৯ বছর বয়সে এসেও এতো নিবেদন একটা মানুষ কোথা থেকে পান। এ কারণেই হয়তো তিনি লিওনেল মেসি।
অনেকেই মনে করেন মেসির শেষ ম্যাচ আমরা দেখে ফেলেছি। তিনি নিজে অবশ্য এ নিয়ে কিছু বলেননি। আর্জেন্টাইন কোচকে এ ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলনে জিজ্ঞাস করা হয়। তিনি জানান, এ নিয়ে এখনও মেসির সঙ্গে কথা হয়নি।
ইব্রাহিমোভিচ বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে বলেছেন, ‘বিশ্বকাপে আমরা মেসির খেলা মন ভরে উপভোগ করেছি। বিশ্বকাপটা জিততে না পেরে ও ভীষণ দুঃখী। কিন্তু ও একটা অবিশ্বাস্য বিশ্বকাপ কাটিয়েছে। একা হাতে এই দলটাকে টেনে নিয়ে গেছে। ও যা করেছে, তা স্রেফ জাদুকরি। কখনো মনে হয়েছে ও এই গ্রহেরই কেউ না, আবার কখনো একদম আমাদের মতো রক্তমাংসের মানুষ হয়ে উঠেছে!’
ডেনমার্কের সাবেক গোলকিপার স্মাইকেল বলেছেন, ‘ বিশ্বকাপে জেতার চেয়ে ফাইনাল হেরেছে বেশি। তারপরও ওই ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়। যেকোনো বাচ্চা যখন ওর দিকে তাকাবে, সে বুঝতে পারবে ফুটবল মানে শুধু জেতা নয়। ফুটবল মানে আপনি খেলাটাকে কী দিয়ে গেলেন। আর মেসি এই খেলাটাকে যা দিয়েছে, তার কোনো তুলনা হয় না।’
এই একটা কথাই বুুঝিয়ে দেয় লিওনেল মেসি মানুষটা কী!
থ্যাঙ্ক ইউ মেসি। আমাদের জীবনে আনন্দ দেওয়ার জন্য।
Author