
একদল লোক কথায় কথায় ৯০-য়ের সাথে ২৪-রে মিলায়। আরেকদল লোক এইটারে ৬৯-য়ের চাইতে অনেক মাইল্ড বানাইতে চায়।
৯০ নিয়া আলোচনা করলাম না। কারণ এখন সবাই বোঝে ঐ ৯ বছর এই ১৬ বছরের তুলনায় কিছুই না। আমরা বরং ৬৯কে বোঝার চেষ্টা করি।
দেখেন এটা ৬৯-য়ের সাথে ২৪-য়ের ফুটবল খেলা না। ৬৯ আর ২৪ প্রতিপক্ষতো না-ই, বরং দুইটাই আমাদের জার্নির অংশ। দুইটাই আমাদের রাজনৈতিক জীবনে বড় প্রভাব ফেলছে। ফলে দুইটারেই পাশাপাশি রাইখা একটু দেখার চেষ্টা করি।
৬৯-য়ের গণ অভ্যুত্থানে কতজন মানুষ মারা গেছে? কত হাজার রাউন্ড গুলি ছোঁড়া হইছে? হেলিকপ্টার থেকে নিজের দেশের মানুষদের উপর গুলি করা হইছে একটাও?
৬৯-য়ের আগে কতজন মানুষকে গুম করে পেট কেটে নদীতে ফেলে দেয়া হইছে? বিরোধী দলের কতজন নেতা ক্রসফায়ারের শিকার হইছে? কতজন নি-ক্যাপিংয়ের শিকার হইয়া সারাজীবন পঙ্গুত্ব বইয়া বেড়াইছে? কতজনের চোখ উপড়াইয়া ফেলা হইছে? কত লক্ষ লোক ভুয়া মামলায় নির্যাতিত হইছে?
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কথা আমরা জানি। এই ১৬ বছরেতো খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ আজকের সরকার এবং বিরোধীদলের নেতাদের নামে কয়েক ডজন ষড়যন্ত্র মামলা হইছে। ভুয়া মামলায় সাজা হইছে!
৬৯-য়ের আগে কতজন রাজনৈতিক নেতা বিচারের নামে হত্যাকাণ্ডের শিকার হইছে? সেই সময় স্কাইপে কেলেঙ্কারির কথা শুনছি আমরা যেখানে রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে মামলার রায় বাইরে থেকে লিখে দিতো? ৬৯-য়ের আগে দেশের প্রধান বিচারপতিরে গোয়েন্দা সংস্থা জোর করে রিজাইন করায়ে বিদেশ পাঠাইছে এরকম নজির আছে?
এবং এটাও মাথায় রাইখেন বাংলাদেশ এই ১৬ বছরের মতো পরাধীনতার শৃঙ্খলে আর কখনো পড়ে নাই।
এতো তাড়াতাড়ি ভুলে গেলে হবে আপনার ইলেকশনে কে আসবে, কে আসবে না, কে জিতবে, কে জিতবে না-এগুলা বাইরে থেকে নির্ধারিত হইয়া আসতো!
এতো দ্রুত ভুলে গেলে চলবে এই দেশেরই পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদাধিকারীর গর্বিত উক্তি-- ‘আমি ভারতে গিয়ে বলে এসেছি হাসিনা সরকারকে যেনো ক্ষমতায় রাখে’?
এতো দ্রুত ভুলে গেলে চলবে ট্রাইব্যুনালে দেয়া প্রাক্তন সেনা প্রধানের সাক্ষ্য যেখানে তিনি বলছেন কিভাবে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো কমপ্রোমাইজড হইছে?
এতো দ্রুত? কুঠার ভুইলা যাইতে পারে, গাছ ভোলে না। বাংলাদেশের মানুষ এগুলা ভুলে নাই, ভুলবে না। ভুলবে না জুলাই খালি ৩৬ দিনের হত্যাকান্ড থেকে নাজাতের ঘটনা না, জুলাই ১৬ বছরের অত্যাচার থেকে নাজাত।
আজকে এক ধরনের আত্মঘাতী প্রশ্রয়ে কোথাও কোথাও টেলিভিশন আর নিউজপেপারে যারা বলেন "জুলাই তেমন বড় কিছু না", তারা বড় ধরনের শয়তানি করেন। যারা জুলাইকে জাস্ট আরেকটা সরকার বদল ভাবেন তারা একটা বড় ধরনের শয়তানি করেন। তারা এটা করেন ফ্যাসিবাদের পাপ হালকা করার জন্য। তারা ভুলেই যাইতেছেন এতো বড় বড় অপরাধ জাস্ট মিডিয়ায় উৎপাদিত দূর্বল ন্যারেটিভে ধুয়ে মুছে যাবেনা।
গণহত্যার পর রিকনসিলিয়েশনের একমাত্র রাস্তা বিচার এবং অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া। বর্তমান সরকারকে গৌরবের সাথে মনে রাখতে হবে তারা জুলাই বিপ্লবের অন্যতম নায়ক। তাদের এটাও মনে রাখতে হবে তারা ওয়ান ইলেভেন মার্কা অধ্যায়ের পরের সরকার না। তারা একটা বিপ্লব পরবর্তী সরকার।
বিপ্লবের দুইটা পক্ষ থাকে। আর বিপ্লব জনতার শত্রুদের বিরুদ্ধেই হয়। তাই বিপ্লব পরবর্তী কার্যক্রম স্বাভাবিক সময়ের মতো হইলে বিপদ। ধরেন একজন খুনি যার থাকার কথা জেলে সে যদি একটা স্বাভাবিক মানুষের মতো সমান অধিকার নিয়ে ঘুরে বেড়াতে চায়, ঠিক হবে?
(জুলাই নিয়ে দুই বছরের মাথায় দাঁড়ায়ে যা যা মনে আসতেছে সেগুলা ‘জুলাই নদীর হাওয়া’ সিরিজ নামে ফেইসবুকে লিখছেন সাবেক উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তার ফেইসবুক থেকে লেখাটি পলিসি পেপারের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।)
Author