
শেখ হাসিনাতো আসলে তখন রাজাই, যা বলতেন তাই আইন। সে যুগে গণভবনে অদ্ভুত এক সংবাদ সম্মেলনে হাজির হতেন তিনি। যা ইচ্ছা বলতেন। শালীন-অশালীন ভাষায় আক্রমণ করতেন বিরোধীদের। তার বংশবদ সাংবাদিকরা সব কটি দাঁত বের করে তার প্রশংসা করতেন। কখনও হাতে তালি দিতেন। কে জানে দুনিয়ার আর কোন সংবাদ সম্মেলনে এমন হাতে তালি হয় কি না।
আমার এক শিক্ষক লিখেছিলেন, এমন সাংবাদিকতা কোন ক্লাসে শেখানো সম্ভব নয়।
তো শেষ দিকে শেখ হাসিনার এসব সংবাদ সম্মেলন দেখার রুচি ছিল না। ইদানীংও তিনি কোথায় কী বলেন, তা দেখি না। তবে আজ সকালে মানবজমিনে তার একটি সাক্ষাৎকারে চোখ পড়ল। মূলত এটি ভারতের দ্য ওয়ালে দেওয়া শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার। সেখানে দুটি পয়েন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে হলো।
এক. শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে শেখ ফজলুল করিম সেলিম আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দেবেন।
দুই. ভারত বাংলাদেশের নির্বাচন মেনে নেওয়ায় তিনি ভারত সরকারের ওপর নাখোশ।
দুই নম্বর পয়েন্টটা এটা আরও একবার স্পষ্ট করে, আওয়ামী লীগ মূলত একটি ভারতীয় আউটলেট এবং শেখ হাসিনা মূলত ভারতীয় কনটেন্ট।
তবে যে বিষয়টি অনেককে আশ্চর্য করেছে, সেটা হচ্ছে শেখ সেলিমকে নেতা ঘোষণার বিষয়টি। হ্যাঁ, শেখ সেলিম সবচেয়ে সিনিয়র প্রেসিডিয়াম মেম্বার। শেখ হাসিনার আত্মীয়। তবে আওয়ামী লীগে সবচেয়ে বিতর্কিত এবং দুর্নীতিবাজ নেতাদের একজন শেখ সেলিম। মন্ত্রী না হয়েও তার প্রভাব ছিল অনেক। পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ বদলি ছিল তার নিয়ন্ত্রণে।
সবচেয়ে বিতর্কিত নেতাদের একজনকে প্রধান নেতা ঘোষণা করে শেখ হাসিনা আরও একবার তার রুচির প্রমাণ দিলেন।
অনেকেই এটা বলে থাকেন, জুলাইতে ৮০০-এর বেশি মানুষ নিহত হল। ৩০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হলেন। আওয়ামী লীগের আমলে লাখ লাখ কোটি টাকা দুর্নীতি হলো। আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী এটা নিয়ে কখনও অনুশোচনা প্রকাশ করেন না।
নিশ্চয়ই আওয়ামী লীগেও ভালো মানুষ আছেন। কিন্তু এ দলের বেশিরভাগ নেতাকর্মীই আওয়ামী লীগের ধর্মে বিশ্বাস করেন। তারা ক্রমশ নিজেদের দল ও নেত্রীর দাস হিসেবে গড়ে তুলেছেন।
এই হাবশি-গোলামদের জন্য নেতা হিসেবে শেখ সেলিমই উপযুক্ত।
অভিনন্দন লিডার!
Author