
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
একটা দেশের ইতিহাসের প্রধান ঘটনাগুলাকে অস্বীকার কইরা ঐ দেশের রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক হওয়া অসম্ভব।
ফলে জামায়াতে ইসলামীকে যেমন এখন স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়া শ্রদ্ধা জানাইতে হয়, বাংলাদেশে যে বা যারাই রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক থাকতে চান, তাকেও ৫ আগস্ট জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়েই প্রাসঙ্গিক থাকতে হবে।
এই ভুখন্ডে গত একশো বছরে জুলাইয়ের মতো এতো বিস্তৃত, এতো রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান আর ঘটে নাই। বদরুদ্দীন উমর যৌক্তিক কারণেই এটাকে সবচেয়ে বড় গণঅভ্যুত্থান বলেছেন। কিন্তু আপনি যদি সংগ্রাম অর্থেও দেখেন, মুক্তিযুদ্ধ ছাড়া এতো ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং এতো প্রাণের ক্ষয় আর কোথাও খুঁজে পাবেন না।
জুলাই এতো বিস্তৃত ও এতো রক্তক্ষয়ী হওয়ার কারনও আছে। বাংলাদেশ এরকম ফ্যাসিবাদ আগে দেখে নাই। এরকম পরাধীনও আগে কখনো বোধ করে নাই। এতো শহীদ দেখে নাই। এরকম ঠান্ডা মাথার খুনী আগে দেখে নাই। আয়নাঘর আগে দেখে নাই। বিডিআর ম্যাসাকার দেখে নাই। শাপলা দেখে নাই। লাইলাতুল ইলেকশন দেখে নাই।
ফলে এতো ক্ষোভও দেখে নাই। এবং সেই ক্ষোভ এখনো বহমান। ডোন্ট থিংক এটা গোল্ডফিশ মেমোরিওয়ালা জেনারেশন। এবং তারা তাদের অবস্থান নিয়ে গর্বিত কারণ তারা জানে তারা ইতিহাসের ঠিক দিকেই অবস্থান নিছিলো। যেমন মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা দেশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিছিলো, তারা জানতো তারা ইতিহাসের ঠিক দিকেই অবস্থান নিছে।
সামনের দিনে যারাই প্রাসঙ্গিক থাকতে চান আপনাদের নতুন রাজনীতি করতে হবে। বাংলাদেশপন্থী নতুন রাজনীতি।
বট দিয়ে হাহা না কিনে বা ১টাকায় ১ গালি না কিনে আসল কাজে মনোনিবেশ করতে হবে।
কথা পরিস্কার? নাকি কান পরিষ্কার করে নিতে হবে?
Author