
ডেইলি ইন্টেলিজেন্সার ম্যাগাজিনে ‘অ্যাডাম এল্ডার‘ চলমান বিশ্বকাপ ফুটবলে সারা দুনিয়ার কাছে আর্জেন্টিনা এবং দলটির সেরা খেলোয়ার লিওনেল মেসি কেনো সবার কাছে ভিলেন হয়ে উঠেছে তা নিয়ে প্রবন্ধ লিখেছেন। পলিসি পেপারের নিয়মিত পাঠকদের জন্য প্রবন্ধটির বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করা হলো।
”খেলাধুলার জগতে নায়ক ও খলনায়কের ধারণা সবসময়ই থাকে। তবে আর্জেন্টিনার ফুটবল দল এমন একটি দল, যাকে প্রায়ই একই সঙ্গে দুই ভূমিকাতেই দেখা যায়। ফুটবলের মৌলিক দ্বৈততা—একদিকে শিল্পসুলভ নৈপুণ্য, অন্যদিকে জয়ের জন্য সীমা অতিক্রম করার প্রবণতা; একদিকে খেলাটির মর্যাদা রক্ষা, অন্যদিকে নিয়মের ফাঁকফোকর যতটা সম্ভব কাজে লাগানোর চেষ্টা—এই দুই বিপরীত বৈশিষ্ট্যের মিশেল আর্জেন্টিনার মতো আর কোনো দলের মধ্যে এত স্পষ্ট নয়। ইতিহাসজুড়ে আর্জেন্টিনা কখনও ফুটবলের সর্বোচ্চ সৌন্দর্যের পরিচয় দিয়েছে, আবার কখনও নেমে গেছে এর সর্বনিম্ন পর্যায়ে।
চার বছর আগে, ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত লিওনেল মেসি পঞ্চম প্রচেষ্টায় আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতান। নিজের অসাধারণ ক্যারিয়ারের একমাত্র অপূর্ণতাও তিনি তখন মুছে দেন। সর্বকালের অন্যতম সেরা বিশ্বকাপ ফাইনালে অনবদ্য পারফরম্যান্স দিয়ে তিনি সেই শিরোপা জয় করেন।
কিন্তু এবারের টুর্নামেন্ট যেন ভিন্ন গল্প বলছে। মেসিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই আর্জেন্টিনা দল এবং তাকে ঘিরে সমর্থকদের প্রায় ধর্মীয় উন্মাদনা—এর সঙ্গে, অনেকের সন্দেহ অনুযায়ী, মাঝে মাঝে ম্যাচ কর্মকর্তাদের সহায়তাও যোগ হয়েছে। ফলে চার বছর আগে যে বিষয়গুলো আকর্ষণীয় বা অনুপ্রেরণাদায়ক মনে হয়েছিল, সেগুলো এখন অনেকের চোখে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে। শনিবার কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে, অদ্ভুতভাবে আর্জেন্টিনাই যেন এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ‘ভিলেন’-এর প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
টুর্নামেন্টের শুরুটা অবশ্য তাদের জন্য বেশ ইতিবাচকই ছিল। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর শিরোপা ধরে রাখার অতিরিক্ত চাপ আর ছিল না। দল ও কোচিং স্টাফ ছিল স্থিতিশীল, আর মেসিও আগের মতোই সহজে গোল করে যাচ্ছিলেন। প্রথম কয়েকটি ম্যাচ যেন তাদের সেরা
মুহূর্তগুলোর সংকলন ছিল; পুরো পরিবেশে ছিল ‘লাস্ট ড্যান্স’-এর আবহ।
কিন্তু বিশ্বকাপের আসল পরীক্ষা শুরু হয় তখনই, যখন আপনি চাপে পড়েন। শেষ ষোলোর ম্যাচে শক্তিশালী ফেভারিট আর্জেন্টিনা দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মিশরের কাছে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে। নিজেদের অর্ধে আর্জেন্টিনার কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে মিশর দারুণ ড্রিবল, নিখুঁত পাস এবং দ্রুতগতির আক্রমণে পুরো মাঠ পেরিয়ে অসাধারণ এক পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল করে। সেটি হয়তো পুরো টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোল ছিল। মুহূর্তেই আর্জেন্টিনা বড় চাপে পড়ে যায়।
এরপর ম্যাচের মোড় ঘুরতে শুরু করে। মেসি দাবি করেন, গোল হওয়ার আগে একটি সম্ভাব্য ফাউল হয়েছিল এবং তিনি সাইডলাইনের কর্মকর্তাকে রেফারিকে সেই ঘটনাটি ভিডিও রিভিউ (VAR) করার অনুরোধ জানাতে বলেন। বিষয়টি অনেকের কাছেই অযৌক্তিক মনে হয়েছিল। কারণ, রেফারি প্রথমে খেলা চলতে দিয়েছিলেন এবং কথিত ফাউলের পরও আর্জেন্টিনার সামনে পুরো মাঠজুড়ে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানোর সুযোগ ছিল।
তবুও রেফারি মেসির অনুরোধ মেনে নেন এবং শেষ পর্যন্ত মিশরের গোলটি বাতিল করে দেন। ধারাভাষ্যকারসহ অনেক দর্শকই এই সিদ্ধান্তে বিস্মিত হন। তবে মিশরের ক্ষোভ তখনও কেবল শুরু হয়েছে। পরবর্তীতে আর্জেন্টিনা ম্যাচে ফিরে আসে এবং মেসির করা গোলে সমতা ফেরায়। এরপর একই রেফারির আরেকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ম্যাচের শেষদিকে মিশরের স্পষ্ট পেনাল্টির দাবি নাকচ করে দেওয়া হয়...
Author