
বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় আসার ৬ মাসের মাথায় দেশব্যাপী আন্দোলনে নেমেছে তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট। তেল-গ্যাস, গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ৬ দফা দাবি আদায়ে শনিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম ‘লংমার্চ’ কর্মসূচি পালন করছে সংসদের বিরোধী ১১ দলীয় জোট।
লংমার্চ থেকে সরকারকে এক দফার হুমকি দিয়েছেন জোটের নেতারা। তাঁদের বক্তব্যে সরকারের প্রতি চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি রাজপথে দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলনের ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।
শনিবার সকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার শিমরাইলে ঢাকা–চট্টগ্রাম লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, সরকার জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। জনগণ তাঁদের ক্ষমা করবে না। এই সরকার জনগণের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি ও প্রতারণা করছে। ওয়াদা দিয়ে ওয়াদা লঙ্ঘন করছে। জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না,
যোগ করেন তিনি।

লংমার্চের যৌক্তিকতা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যারা রাজপথে রক্ত দিয়েছেন, তাঁদের দাবি এখনো পূরণ হয়নি। সেই দাবি আদায়েই তাঁরা রাজপথে নেমেছেন।
গণভোটের গণরায় এবং জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের দাবি সামনে রেখে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন জামায়াতের আমির।
তাঁর ভাষায়, “আমরা রাস্তায় নেমেছি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করার জন্য। রাস্তায় নেমেছি জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন করার জন্য। আমরা রাস্তায় নেমেছি আপনাদের ঘরে গ্যাস ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। রাস্তায় নেমেছি আপনাদের ঘরে বিদ্যুৎ ও বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা করার জন্য।”
লংমার্চের পথসভায় সরকারকে সরাসরি সতর্ক করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, “তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ—এই সরকারকে সরবরাহ করতে হবে। নইলে এই সরকার গদিতে থাকতে পারবে না।”
নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে জনদুর্ভোগের বিষয়টিকে রাজনৈতিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ইস্যু হিসেবে তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সংকটকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বিরোধী জোট।
তাঁর বক্তব্যেও গণভোটের ফল বাস্তবায়নের দাবিকে সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ তৈরির প্রধান ইস্যু হিসেবে দেখা যায়।
মামুনুল হকের ভাষায়, “ইনশা আল্লাহ, আমাদের লংমার্চের মধ্য দিয়ে চলমান এ আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হচ্ছে।”
১৯৭০ সালের গণরায়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সে সময় গণরায় নিয়ে তামাশার পর মুক্তিযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে তিনবার ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার কারণে জনগণ শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে।
এদিকে গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানের জন্য বিরোধী দলকে সমস্যা সমাধানে পরামর্শ এবং তাদের প্রস্তাবনা তুলে ধরতে আহ্বান জানিয়েছিলেন সরকারপ্রধান তারেক রহমান। আর লংমার্চ শুরুর ঠিক আগের দিন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জামায়াত জোটকে আবারও বিদ্যুৎ-গ্যাস সমস্যা সমাধানে করণীয় প্রস্তাব করার আহ্বান জানান।
Author